প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে স্বর্গ-নরক

প্রাচীন মিশরীয় ফারাও ধর্ম মতে স্বর্গে অন্যান্য সুযোগ সুবিধার সঙ্গে কৃষিকাজেরও ব্যবস্থা থাকবে৷ তাদের আর এক বিশ্বাস ছিলো, যুগ বিবর্তনান্তে তিন থেকে দশ হাজার বছর পরে মৃত ব্যক্তির আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসবে৷ আর এই বিশ্বাসের কারণেই মিশরে মৃতদেহ রক্ষার প্রথা প্রবর্তিত হয়েছিল৷ প্রাচীন মিশরীয়রা প্যাপিরাস বা সমাধিগাত্রে মৃত ব্যক্তিদের জীবন সংক্রান্ত বিভিন্ন কথা লিখে রাখার প্রচলন ছিল৷ পরে একসময় সেই সব লেখা সংকলন করে “আমদুয়াত গ্রন্থ, ফটকের গ্রন্থ এবং মৃতের গ্রন্থ” নামক তিনটি গ্রন্থ রচিত হয়৷ মৃতের গ্রন্থের বর্ণনায় দেখা যায় যে, প্রত্যেক মৃতকে পরমেশ্বরের কাছে একটা শপথ বা এফিডেভিট দিয়ে জীবিত কালে তার পাপ পূণ্য কাজের হিসেব দিতে হবে৷ পরে ঐ সত্যপাঠের সত্য মিথ্যা যাচাই করবেন জ্ঞানের দেবতা ‘থৎ’ এবং ‘হোরাস’ ৷ মৃতের হৃৎপিণ্ড দাঁড়িপাল্লায় ওজন করা হবে ৷ বিচারের বর্ণনায় দেখা যায় যে, দুইটি দ্বার দিয়ে স্বর্গ ও নরককুণ্ডে প্রবেশ করতে হবে৷ পুণ্যাত্মাগণ আলু নামক স্বর্গধামে প্রবেশ করে মনের আনন্দে শস্যক্ষেত্র চাষ করবে, আর পাপাত্মাদের নরককুণ্ডে পাঠিয়ে পিলারের সঙ্গে বেঁধে জ্বলন্ত আগুনে পোড়ানো বা গভীর সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হবে৷ আরো কিছু আনুষ্ঠানিকতার পর অধিকতম পুণ্যবানগণ এক পর্যায়ে নিম্নতম স্বর্গে দেবগণের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিধানও চালু ছিল মিশরীয় ফারাওদের ধর্মে।

Print Friendly, PDF & Email